সরকারের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন চেক প্রেসিডেন্ট!
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১৮:১৭

অভিনব ও অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল। তিনি দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ‘সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা’নিয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন।
আগামী মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সব ন্যাটো সম্মেলনেই চেক রিপাবলিকের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন পাভেল।
১৯৯৯ সালে দেশটি ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সাধারণত প্রেসিডেন্টরাই এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তবে আসন্ন সম্মেলনে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ধনকুবের ও জাতীয়তাবাদী নেতা আন্দ্রেজ বাবিসের নেতৃত্বাধীন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সাবেক ন্যাটো জেনারেল পাভেল এবার আঙ্কারার সম্মেলনে থাকবেন না। বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে যাবেন।
পাভেল বলেন, তিনি সাংবিধানিক আদালতে ‘ক্ষমতা-সংক্রান্ত মামলা’করেছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা যায়। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এ বিরোধ তৈরি হয়েছে।
তিনি সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন।
জানান, সংবিধানমতে দেশের বাইরে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার আছে প্রেসিডেন্টের।
সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে, তারা মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং এটাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
বাবিস জানান, তিনি পাভেলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বাবিস আরও বলেন, তবে আমি মনে করি না এটা ভালো সিদ্ধান্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো সম্মেলন প্রসঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্ত ‘বাস্তবসম্মত’।
বাবিস তার নিজের দল এএনও মুভমেন্ট, কট্টর ডানপন্থি এসপিডি ও মোটোরিস্টস নামের তিন দলীয় জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পাভেল ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্টের রান-অফ ভোটে বাবিসকে পরাজিত করেন। এরপর থেকে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।
বিশেষ করে, গত বছরের শেষ দিকে বাবিসের নেতৃত্বে তিন দলীয় জোটের সরকার গঠনের সময় কয়েকজন নেতার নিয়োগ নিয়ে দুইজনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।
জোটের অন্যতম শরীক দল মোটরিস্ট পার্টির নেতা ফিলিপ তুরেককে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে রাজি হননি প্রেসিডেন্ট পাভেল। ফিলিপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ আছে।
সে সময় পাভেলের পক্ষে দাঁড়ান লাখো চেক নাগরিক।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










